হোসেনউদ্দীন হোসেন বহুমাত্রিক লেখক। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তাঁর নজর পড়েনি। গল্প উপন্যাস কবিতা এমন কি ইতিহাস গবেষণাতেও তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। কিন্তু সেটা বড় কথা না, বড় কথা হলো, তাঁর এই বিপুল কর্মকাণ্ড তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন বা অর্থনৈতিক প্রলোভনেই যে করেছেন এমন না। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সর্বত্রই তাঁর অনুসন্ধানের বিষয় হলো জনগোষ্ঠির গরিষ্ঠ মানুষের অবস্থান। এই অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে ইতিহাস চর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এই অনুসন্ধানই তাঁকে করেছে উপন্যাসিক গল্পকার কবি প্রবন্ধকার ইত্যাদি।
কমিটেড লেখক কাকে বলে তাই নিয়ে নানা বিতর্ক থাকতে পারে কিন্তু কারও লেখা থেকে যদি দেশের গরিষ্ঠ মানুষের চালচিত্র গতিপ্রকৃতি সংকট সম্ভবনা ইত্যাদি ইতিহাসের অমোঘ উপাদান সমূহ উদ্ভাসিত হয় তবে তাঁকে অন্তত বাজারি লেখক বলে আখ্যায়িত করা যায় না। হোসনেউদ্দীন হোসেন ছিলেন এই গোত্রের লেখক।
ইঁদুর ও মানুষেরা তাঁর লিখিত অন্যতম উপন্যাস। উপন্যাসটা কতটা উপন্যাস হয়ে উঠেছে সেটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কেননা বঙ্কিম থেকে শুরু করে হালের সুনীল- সমরেশ- হুমায়ূন- মিলন পর্যন্ত দীর্ঘ পরিক্রমায় বাংলা উপন্যাসের যে এক শক্ত ছাঁচ গড়ে উঠেছে কয়েকজন ব্যতিক্রম ছাড়া কেউই প্রায় এই ছাঁচের বাইরে হাত রাখবার সাহস করেননি। যে কারণে হয়ত একটা দীর্ঘ সময়ব্যাপী আমাদের উপন্যাসে নতুন কোনো বিষয় নেই, নেই নতুন আঙ্গিক বা জীবনধর্মী নীরিক্ষা। অথচ ভীষণ ঘটনাবহুল আমাদের এই দেশ, এ দেশের আর্থ-সামাজিক- রাজনৈতিক পরিস্থিতি কম্পমান তারের মতো, অস্থির অস্থিতিশীল।
স্বাধীনতার যুদ্ধ এই জনপদের মানুষের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ছিল একটা মাইল ফলক। নানা কারণে এই যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছিল নাটকীয়ভাবে, সময়কালও ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। কিন্তু সময়ের পরিধি দিয়েই এর গুরুত্ব বিচার করা চলে না। এদেশের জনগণের আমূল পর্যন্ত ভূমিকম্পের মতো ঝাঁকি দিয়েছিল এই যুদ্ধ। আমাদের সাহিত্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বাপর পরিস্থিতি প্রতিফলিত হবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রতিফলনে কতটা আবেগ আর কতটা গভীর পর্যবেক্ষণ কাজ করেছে সেটা নিয়ে ভাবা যায়। এ কথা অস্বীকার করার জো নেই যে আজ পর্যন্ত স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে কোনো কালজয়ী উপন্যাস রচিত হলো না। অথচ বিষয়টিকে পাশ কাটাবার উপায় নেই কোনভাবে। আমাদের সাহিত্যিকদের দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা এই ব্যর্থতার কারণ কিনা সেটা একটা প্রশ্ন।
কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠির জন্য যুদ্ধ যেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমন যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ না। ক্ষেত্র বিশেষে তার গুরুত্ব যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির থেকেও বেশি। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তীতে আমাদের দেশের পরিস্থিতি কি দাঁড়ালো ইঁদুর ও মানুষেরা উপন্যাসের পটভূমি হচ্ছে সেটাই। লেখক এক্ষেত্রে গ্রামকে বেছে নিয়েছেন। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বাস গ্রামে। কাজেই গ্রামের পরিস্থিতি যে সামগ্রিকতাকে প্রকাশ করতে পারে আর কোনভাবে সেটা হয় না। আমাদের গ্রামের সম্পদ হচ্ছে প্রধানত ২টা,- (ক) জমি, ও (খ) জলা। লেখক উপন্যাসকে ভাগ করেছেন ৩ ভাগে। প্রথম অংশের শিরোনাম আমি তোমাদের লোক। শ্রেণী বিভক্ত সমাজে সমাজপতিরা কিভাবে ছল-বল-কৌশলে জনগণের সম্পদ করায়ত্ত করে এবং সদ্য স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র কিভাবে দেশের ব্যাপক অংশ মানুষকে বঞ্চিত করে মুষ্টিমেয় শাসক শ্রেণীর প্রতিনিধিদের স্বার্থ সংরক্ষণে নগ্ন ভূমিকা পালন করে তার লোমহর্ষক পরিচয় উপন্যাসের এই অংশে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় অংশ-দাঁড়াবার জায়গা নেই। সেখানে লেখক দেখিয়েছেন আমাদের গ্রামের আর একটা যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ-জলা, সেই জলাকে কেন্দ্র করেও শাসক শ্রেণীর ষড়যন্ত্র কত প্রসারিত ও নৃশংস। তারপর আমরা পাই,- বসতভূমি, যেখানে লেখক একটা উপসংহারে পৌঁছাতে চেয়েছেন।
স্বাধীনতার পরপরই আমাদের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়। দেশের শাসক তখন দেশেরই মানুষ, দীর্ঘদিনের পাকিস্তানি শাসনের ছায়া অপসারিত হয়েছে, গ্রামীণ ক্ষমতা কেন্দ্রেও স্বাভাবিকভাবে তার ছাপ পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন কি গ্রামের ব্যাপক অংশ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করছে? লেখক যেন অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তন্নতন্ন করে দেখাতে থাকেন নতুন যে সমাজ বিন্যাস শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পর এবং সেই বিন্যাসের পক্ষে যে রাষ্ট্রযন্ত্র, তার কোনোকিছুই দেশের গরিষ্ঠ মানুষের পক্ষে না বরং মুষ্টিমেয় শাসক শ্রেণীর স্বার্থেই নিয়োজিত। কিন্তু যুদ্ধ করেছিল সাধারণ মানুষ, অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল নতুন উদ্দীপনায়, তাদের দমানো কি সহজ? তারা তো দুর্বার শক্তি। নিজেদের মতো করে তারা প্রতিবাদ-প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ হলো। কাজেই মাঠে নামানো হলো রক্ষীবাহিনী। ভয়াবহ তাদের অত্যাচার আর নৃশংসতা। গ্রামের অসংগঠিত রাজনীতিশূন্য মানুষ কি এই সশস্ত্র প্রশিক্ষিত বাহিনীর সামনে দাঁড়াতে পারে? গ্রামের পর গ্রাম চললো রক্ষীবাহিনীর পরিকল্পিত হামলা, সাধারণ নিরীহ নিরস্ত্র গ্রামের মানুষদের খুন করা হলো নির্বিচারে, ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়ানো হলো চারিদিকে।
এরকম একটা পরিস্থিতিতে লেখক এলাকার চরম অত্যাচারী খুনি বজলে রহমান আর তার সহচর রব্বেলের কথপোকথনের মাধ্যমে যে দৃশ্যপট তুলে ধরেছেন সেটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
বৈঠক ঘরের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে রব্বেল মোড়ল। চোখে মুখে একটা আতঙ্ক। একটা কালো ছায়া যেন ওর শরীরে ভর করে আছে।
কি হয়েছে রব্বেল?
রব্বেল কাঁপতে লাগলো। তুমি কি কিছুই জানো না?
মুখ নাড়ালো বজলে রহমান। নাহ্ ।
কেঁদে ফেললো রব্বেল। যে গাছের তলায় আমরা ছিলাম সেই গাছটা কেটে ফেলেছে।
বুঝলাম না ভালো করে বলো।
এই তো কিছুক্ষণ আগে কেটে ফেলেছে। রেডিওটা খুলে শোনো-বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে কেটে ফেলেছে।
অসাধারণ নির্লিপ্ততার সাথে লেখক এই সংবাদ পরিবেশন করলেন। এবং এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া যে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোথাও নেই তার আভাসও পাওয়া গেল।
এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথিত স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী যে শ্রেণীর তিনি প্রতিনিধিত্ব করলেন সেই শ্রেণী শুধু যে জনবিচ্ছিন্ন ছিল এমন না, জনগণের উপর শোষণ নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেই নিহিত ছিল তার অস্তিত্ব আর বিকাশ। সামাজিক পটভূমিতে লেখক বিষয়টাকে দেখিয়ে দেন স্পষ্টভাবে। যে কারণে অতবড় বিশ্বনন্দিত নেতা এক নৈমিত্তিক সকালে যখন খুন হলেন নৃশংসভাবে, সারা দেশের কোথাও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। লেখকও মাত্র কয়েকটা লাইনেই বিষয়টার ইতি টানলেন।
ঘুঘুদহ গ্রামকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের বিন্যাস। কিন্তু এই গ্রাম সাহিত্য-বর্ণিত বাংলার চিরায়ত স্থবির সেই গ্রাম না। আধুনিকতার ছাপ পড়েছে সেখানে। সেচের আবাদ শুরু হয়েছে। জমিদারদের স্থলে এসেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ক্ষমতার কেন্দ্রে এসেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের চাঁই-চামুণ্ডারা। জমিদারের পাইক-পেয়াদার বদলে এসেছে পুলিশ-দারোগা। গ্রামের শ্যামল-স্নিগ্ধ-পাখিডাকা পরিবেশের সাথে যুক্ত হয়েছে খুন, ধর্ষণ, দখলদারী, লুটপাট আর নানাবিধ ষড়যন্ত্র। এই চিত্র যে শুধুমাত্র ঘুঘুদহ গ্রামেরই এমন না। স্বাধীনতা পরবর্তী নতুন শ্রেণী বিন্যাসের কারণে সারা বাংলাদেশ জুড়েই প্রায় এই চিত্র দেখা যাবে। জনগণের সাথে শাসক শ্রেণীর দ্বন্দ্ব এখন বহুমুখি। পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সাথে শাসক ও শোষিত-কৃষকদের দ্বন্দ্ব যে কত বিস্তৃত ও বহুমুখি হয়ে উঠতে পারে লেখক সেদিকে দৃষ্টি দিয়েছেন।
সরখেল মুক্তিযোদ্ধা। রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। জনগণের কল্যাণের জন্য সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শাসক শ্রেণীর লুটেরা চরিত্রের সাথে সে নিজেকে মেলাতে পারে না। জনগণের সপক্ষে সে সংগ্রামে নামে, জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যৌথ সমবায় আন্দোলন গড়ে তোলে, সমর্থনও পায় ব্যাপক। সে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। কিন্তু লড়াইটা যে রাজনৈতিক। শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো রাজনৈতিক শিক্ষা তার ছিল না। সে রকম দেশব্যাপী সংগঠনই বা সে তখন কোথায় পাবে? সরখেলকে তাই হেরে যেতে হয়। রক্ষীবাহিনীর অত্যাচারে সারা জীবনের জন্য সে পঙ্গু হয়ে যায়।
সরখেলের মতো আর একজন প্রতিবাদী মানুষ কাসেম নিকেরি। সরখেলের লড়াই ছিল জমি নিয়ে, কাসেম নিকেরির লড়াই জলা নিয়ে। কিন্তু তাকেও পরাজয় মানতে হয়। কোর্ট-কাছারি-সালিশ-বিচার করেও হাজার বছরের জলার উপর দখলি সত্ত্ব তারা ধরে রাখতে পারে না। স্বধীনতা উত্তর নতুন শাসক গোষ্ঠি থাবা বসায় সেখানে। কাসেম স্বজাতিদের মধ্যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, আশা জাগিয়েছিল তাদের মনে কিন্তু রাজনৈতিক কাজ অরাজনৈতিক সদিচ্ছা দ্বারা সম্পন্ন হবার না বলেই কাসেমকেও পরাজয় মানতে হয়। কাসেমের মৃত্যু হয় কিন্তু সেটা মৃত্যু না হত্যাকাণ্ড? এ প্রশ্ন পাঠকদের ভাবনায় থেকে যায়।
বিপুল চরিত্র আর ঘটনার ঘনঘটায় ইঁদুর ও মানুষেরা উপন্যাস কাহিনী বা ব্যক্তি প্রধান হয়ে ওঠে না। সরখেল, নিকেরি কাসেম, রব্বেল, এরকম কয়েকটা চরিত্র যা একটু প্রাধান্য পায় কিন্তু সেটা তাদের প্রতিষ্ঠা করার জন্যে না। এই প্রথম যেন আমরা আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের একটা নিরাভরণ আলগা রূপ স্পষ্ট দেখতে পাই-যেখানে একজন এমপি-দারোগা-উকিল-সমাজপতি ইত্যাদি সকলেই তাদের স্বনির্মিত মুখোশ উন্মোচন করে স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করে। লেখক চেয়েছেন একটা সময়কে ধারণ করতে এবং সেটা সেই সময়-আজকের বাংলাদেশের ভিত যখন রচিত হচ্ছে। এই সময়কে ধারনের স্বার্থেই ব্যাক্তি এসেছে, যখন যেখানে যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে। আবার কখনও সময়ের ব্যাখ্যায় লেখক ব্যবহার করেছেন ভারী সব তত্ত্ব কথা। এই কাজ করতে যেয়ে হয়ত কিছু অতিরঞ্জন হয়েছে কিন্তু বিষয়টা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সন্দেহ নেই।
কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া গেল।
ক) ধনবানের ধন সঞ্চয়ের মূলে রয়েছে শোষণ। পৃথিবীর কোনো ধনবান এবং ক্ষমতাবান ভূমিতে শস্য উৎপাদন করে না। অপরের শস্য লুণ্ঠন করে। ব্যক্তিগত স্বার্থে মজুদ করে। বাজারে রপ্তানি করে এবং মুনাফা করে। একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ধন সঞ্চয়।
খ) নিজের উৎপাদনের উপায়ের উপর শ্রমরতের ব্যক্তিগত মালিকানা হলো ক্ষুদে উৎপাদনের ভিত্তি, আর ক্ষুদে উৎপাদন হলো সামাজিক উৎপাদন এবং খোদ কর্মীর অবাধ ব্যক্তি স্বাতন্ত্রের প্রয়োজনীয় শর্ত।
গ) যেহেতু এক শ্রেণী দ্বারা অপর শ্রেণীর শোষণ হচ্ছে সভ্যতার ভিত্তি, সেজন্যই এর সমগ্র বিকাশ চলেছে অবিরাম বিরোধের মধ্য দিয়ে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অগ্রসর পদক্ষেপ একই সঙ্গে নিপীড়িত শ্রেণী অর্থাৎ বৃহৎ সংখ্যাধিক্য মানুষের অবস্থার ক্ষেত্রে পশ্চাৎগতি।
একেবারে চলতি ভাষায় সরল ভঙ্গিতে লেখক তাঁর উপন্যাসকে রূপায়িত করেছেন। শুধু মাত্র কথোপকথনের ক্ষেত্রে না, বর্ণনার ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর ভঙ্গিকে ব্যাহত হতে দেননি। এরকম ভাষায়, এরকম ভঙ্গিতে, তিনি যে গভীর বিষয়ের অবতারণা করলেন সেটা শুধু তাঁর দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস বা সাহসের পরিচয় না, দেশের ব্যাপক অংশ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
উপন্যাস হিসেবে রচনাটা কতটা সার্থক সে বিবেচনা পাঠকের তবে উপন্যাসের রীতি আর আঙ্গিকের ক্ষেত্রে রচনাটা যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দাবি রাখে সে কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
(পাভেল চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক)


















